You are here: Home / গল্প / ছেলেবেলা

ছেলেবেলা

ওয়ারিশ আজাদ নাফি

কোকাকোলার সাথে একসময় ইয়ো ইয়ো নামের খেলনা দিত। আমাদের ছেলেবেলায় সে ইয়ো ইয়ো ছিল আমাদের কাছে দুনিয়ার সবচেয়ে দামী বস্তু। দুই রঙ্গের ইয়ো ইয়ো ছিল। কোকের টা চকলেট কালারের স্প্রাইটের টা সবুজ। ভেতরে জড়ি থাকায় আলো পড়ে চিক চিক করত। কারো হাতে সে ঝিল মিলে ইয়ো ইয়ো দেখলে হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরতাম
.
নব্বই এর সে দিনগুলোয় আমাদের কাছে আই ফোন সিক্স ছিল কোকাকোলার ইয়ো ইয়ো ফ্রিতসবি। ফ্রিতসবিও কোকাকোলার সাথে। আর পেপসির সাথে দিত ক্রিকেট প্লেয়ারদের কার্ড। শচীন ওয়াসিম সাইদ আনোয়ার লারা ওয়ার্নদের ক্যারিয়ার স্ট্যাট আর ছবি ছাপা কার্ড।
.
রোজা শুরু হলে আমাদের ব্যাস্ততাও বেড়ে যেত। পাড়ায় পাড়ায় হাফপ্যান্ট পড়া ক্ষুদে ব্যাবাসায়ীরা দড়ির মধ্যে স্টিকার আর ঈদ কার্ড ঝুলিয়ে বসে যেতাম। এক একজনের কি ভাব যেন কর্পোরেট কোম্পানির এম ডি। ব্যাবসায়িক পার্টনারও ছিল। জনে জনে ত্রিশ টাকা দিয়ে দেড় দুইশ টাকায় ঈদ কার্ডের বিশাল দোকান খুলে বসে যেতাম। জীবনের প্রথম ব্যাবসায় আট টাকা লাভ করেছিলাম
.
আর ছিল কমিক্স। সারাদিন বইয়ের নীচে লুকিয়ে কমিক্স পড়তাম বলে আম্মা একবার আমার সব কমিক্স পুকুরের পানিতে ফেলে দিয়েছিলেন। চাচা চৌধুরী আর সাবু ছিল আমাদের লেজেন্ড। প্রাণ নামক এক ইন্ডিয়ান ভদ্রলোক আর তার চাচা চৌধুরী সিরিজ পিঙ্কি টিঙ্কু অগ্নিপুত্র অভয় রাকা আমাদের ছেলে বেলাটাকে সুন্দর করতে অনেক অবদান রেখেছিল। আজকাল কমিক্স পড়তে প্রায় দেখিইনা। ছেলে মেয়েরা এখন হাইটেক জিনিসের পাগল
.
ঘুড়ি উড়াতাম ক্ষেতের মাঝখানে গিয়ে। আরেকজনের ঘুড়িকে কেটে দেয়া ছিল আমাদের কাছে ব্যাপক বীরত্বরে কাজ। কাচের টুকরা বালু দিয়ে মিক্সচার বানিয়ে ঘুরির সুতোয় মাঞ্জা মারতাম। একবার সে মাঞ্জা মারতে গিয়ে আঙ্গুল টাঙ্গুল কাইটা অস্থির অবস্থা।
.
রথের মেলায় গিয়ে টিনের পিস্তল আর স্টিমার কিনতাম। বারুদ লাগালে কান ফাটান আওয়াজ করত। দাদার কানের কাছে গিয়ে বাদরামি করে পিস্তল ফাটানোর কারণে লাঠি হাতে দাদা দৌড়ানি দিত।বাসার যাবতীয় কেরোসিন চুরি করে স্টিমার কে পুকুরের পানিতে ছাইড়া এমন ভাব নিতাম যেন আমিই টাইটানিকের মালিক।
.
একটু বড় হলে ধরলাম তিন গোয়েন্দা। বাকিটা সেবা প্রকাশনীর সাথে আমাদের কঠিন প্রেমের ইতিহাস। কিশোর মূসা রবিনের সাথে অ্যামাজনের জঙ্গল থেকে দক্ষিন সাগরে বেরিয়ে পড়তাম। বেশী ছোট বলে মাসুদ রানা পড়তাম লুকিয়ে লুকিয়ে। মাসুদ রানা নামক বাংলাদেশ কাউন্টার ইন্ডিলিজেন্সের এই এসপিওনাজ ছিল আমাদের সুপারম্যান। উনি আবার ব্যাপক রোমান্টিকও ছিলেন। হ্যালো সোহানা!
সেরা সেরা লেখক দের কাতারে নাম না থাকলেও একজন কাজী আনোয়ার হোসেন একজন রকিব হাসানেরা আমাদের মত নাইনটিজের ছেলে মেয়েদের মনে আজীবন থেকে যাবেন।
.
কাধে বাক্স ঝুলিয়ে আসত হাওয়াই মিঠাই ওয়ালা। এক টাকায় চারটা পাওয়া যেত। ছিল এক টাকা দামের নারিকেলের আইসক্রিম। সে আইসক্রিমের কাছে আজকের মুভেন পিক ও ফেইল। কটকটি খাওয়ার জন্য বাসার রড মড সব বেইচা দিতাম লুকিয়ে। কটিকটি ওয়ালারা ছিল আমাদের অতি আপনজন
.
আজকাল অবশ্য ইলেকট্রনিক গেজেটের যুগ। স্কুলে উঠেই মোবাইল হাতে হাতে। সাথে ফেসবুক আইডি। মোবাইলের মডেল হল ক্লাস ফ্যাক্টর্। ক্লাস ফাইভে পড়া মেয়ের আইকন আলিয়া ভাট। সিক্স সেভেনা পড়া ছেলে মেয়েরা মোটামুটি সব বিষয় জানে যেটা এই বয়সে জানার কথা না। ছেলে মেয়েগুলার ছেলেবেলা বলে কিছু নেই। সেভেন এইটে পড়ে বিষন্নতার কথা বলে। প্রেমে নাকি ছ্যকা খাইছে। জন্ম নিয়াই প্রেমে পড়ে। কত কমপ্লিকেসি কত বড় বড় কথা। কমিক্স নিয়ে কাড়াকাড়ি দেখিনা। বইয়ের দোকানগুলা আজকাল কালের সাক্ষী দেয়। যে বয়সে যাবতীয় লেইম বিষয় নিয়ে অযথা আনন্দ করার কথা সে বয়সে ভার্জিনিটি প্রেম ফ্রাসটেশন নিয়ে বড় বড় উক্তি ছাড়ে।
.
নব্বইতে আমরা যারা বড় হয়েছি আমরা এত চালাক ছিলাম না। আমরা লেম ছিলাম। আমরা ইয়ো ইয়োর মত লেম একটা খেলনা নিয়ে উত্তেজিত ছিলাম। রাস্তার পাশে হ্যাবলার মত ঈদ কার্ডের দোকান নিয়ে বসে যেতাম। পচা নারিকেলের আইসক্রিম মুখে নিয়ে বেড়াতাম। নব্বইতে হয়ত আমাদের কাছে আই ফোন সিক্স ফেসবুকের মত ক্লাসি জিনিস ছিলনা কিন্তু আমাদের মধ্যে ছেলে বেলাটা ছিল। ছেলেবেলার অবুঝ আনন্দ ছিল। আমরা ছোট থাকতে ছোটই ছিলাম লেম ছিলাম ওভারস্মার্ট ছিলাম না

These terms provide that all disputes between you and curriki will be college application essay writers resolved by binding arbitration

.

About গল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Scroll To Top